অপরাধএক্সক্লুসিভফেনীবাংলাদেশ

মেহেদীর রঙ মুছে যাওয়ার আগেই না ফেরার দেশে

গত দেড় মাস আগেই ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের আকরামপুরের আবুল বাশারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সানজিদা আক্তারের। এই অল্পদিনের মধ্যেই সংসারটাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত মেহেদীর রঙ মুছে যাওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হলো তাকে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় দায়ের হত্যা মামলায় স্বামী আবুল বাশারকে আটক করেছে পুলিশ।

মা মোহছেনা আক্তার জানান, এ ঘটনায় সানজিদার স্বামী আবুল বাশার, শ্বশুর ওলি আহমেদ, শাশুড়ি সাফিয়া খাতুন, ভাসুর জাফর, জা রুবি বেগম ও ননদ পিংকি বেগমকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে পুলিশ আবুল বাশারকে গ্রেফতার করেছে। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, গত ৭ নভেম্বর দুবাই প্রবাসী আবুল বাশারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ফেনী সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সানজিদাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সোমবার রাতে আকরামপুরের শ্বশুরবাড়িতে নিজ ঘর থেকে সানজিদার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, সানজিদাকে পছন্দ হয়নি বলে প্রায়ই কটাক্ষ করত স্বামী আবুল বাশার। পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া সানজিদাকে কাবিনের টাকা নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যেতেও বারবার চাপ প্রয়োগ করে সে। দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজেই নিজেকে শেষ করেছে সানজিদা।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আলোকে এরই মধ্যে স্বামী আবু বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন।এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে সানজিদা আক্তারকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

Back to top button