বিএনপিরাজনীতি

সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পর কিছুটা ধীরে-সুস্থে এগুচ্ছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। র‌্যালি, মানববন্ধন ও কালো পতাকা মিছিলের মতো অহিংস কর্মসূচি পালন করেছে তারা। একদফা দাবির পাশাপাশি এবার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদসহ জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি দিচ্ছে বিরোধীরা। একইসঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের মুক্তির পর বড় কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা রয়েছে তাদের। তবে সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের কারণে শিগগিরই দলের কাউন্সিল কিংবা সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কোনো সুযোগ দেখছেন না বিএনপি নেতারা।

বিএনপির নীতি-নির্ধারক একাধিক নেতা জানান, বিএনপির আহবানে দেশের বেশির ভাগ মানুষ ৭ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছে। ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করে সরকার গঠন করলেও স্বস্তিতে নেই তারা।

পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন না পাওয়ায় সরকারের ভেতরে তীব্র অস্বস্তি কাজ করছে। তার ওপর প্রতিনিয়ত কমছে রিজার্ভ। নিত্যপণ্যের মূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও ডলার সংকটের কারণে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। গ্যাস সংকটও চরমে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় আসন্ন রমজান টার্গেট করে জনসম্পৃক্ত নানা কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ওপরে যতই দৃঢ় মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করুক, ভেতরে ভেতরে তারাও জানে তাদের অবস্থান নড়বড়ে। সামনের মার্চ-এপ্রিলের পর ডলার সংকট, দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় জনগণের অসন্তোষ ধারণ করে সঠিক কর্মসূচি দিতে পারলে সরকার বেকায়দায় পড়ে যাবে। আপাতত রুটিন কর্মসূচি দিয়ে মাঠে সক্রিয় থেকে বিএনপি সম্ভবত এমন একটি পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে।

তবে বিএনপি নেতারা স্বীকার করছেন, নির্বাচনের আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে না পারায় নির্বাচনের পর বিএনপির তৃণমূলে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত কর্মসূচি থাকবে। সেক্ষেত্রে মানববন্ধন, পদযাত্রা, প্রতিবাদ সমাবেশ দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে ভার্চ্যুয়ালি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির এক নেতা জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার অনেকটা নমনীয়। বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার ও মামলা-হামলার পরিমাণ কমে এসেছে। কারাবন্দি নেতাকর্মীদেরও মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে কারাবন্দি দলের সিনিয়র নেতাদের ব্যাপারে সরকারের মনোভাব এখনো কঠোর। ২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনার মামলায় দলের মধ্যমসারির নেতারা জামিন পেলেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীগর, স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য, তিন জন যুগ্ম মহাসচিবসহ সিনিয়র একডজন নেতা জামিন পাননি। তাই সিনিয়র নেতাদের জামিনের প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। সিনিয়র নেতাদের মুক্তির পর বড় কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করবে তারা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি মহাসচিবসহ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন পালন করবে জাতীয়তাবাদী নবীন দল। এতে উপস্থিত থাকবেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের জন্য বিএনপি সঙ্গে এখনও লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়নি। বুধবার গণতন্ত্র মঞ্চের মিটিং হয়েছে। আমরা আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করবো। এরমধ্যে কিছু ছোট কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে হয়তো তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। আলোচনা হচ্ছে, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি। বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেই যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করা হবে।

এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রজমান মঞ্জু বলেন, বর্তমান সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জোর করে ক্ষমতায় থাকলেও জনগণের সমর্থন তাদের ক্রমাগত কমেছে। এর কারণ ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা বিষয়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে কর্মসূচি দেওয়ার মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো ও বঞ্চিত জনগণের মধ্যে একটা ঐক্য তৈরি হয়ে যাবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, ইতিমধ্যে সংসদ বাতিলসহ একদফা দাবিতে কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছি। জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আগামীতে সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিসহ জনসম্পৃক্ততামূলক নানা ইস্যু নিয়ে কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করছে আমাদের দলের হাইকমান্ড। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি আসতে পারে। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকবো।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অবৈধ সংসদ বাতিল ও একদফা দাবিসহ নানা ইস্যুতে আমরা কর্মসূচির মধ্যেই আছি। গত মঙ্গলবারও ডামি সংসদ বাতিল ও দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল পালন করেছি। আগামীতেও আমাদের জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি থাকবে। সরকার পরিকল্পিতভাবে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কারাগারে আটকে রেখেছে অভিযোগ করে রিজভী আহমেদ বলেন, একই মামলায় ডামি নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছে সরকার তাদের মুক্তি দিয়েছে। অথচ বিএনপি নেতাদের মুক্তি দিচ্ছে না। এতেই প্রমাণিত মামলাগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।

একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন:

Back to top button