বিএনপিরাজনীতি

‘সন্তুষ্ট’ দলের হাইকমান্ড: আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বিএনপির

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গত শুক্র ও শনিবার প্রথম কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বিএনপির। কর্মসূচির মঞ্চ থেকে শুরু করে মিছিলের সর্বত্র শৃঙ্খলা, নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে দলের হাইকমান্ড সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের আগে ও পরে গণগ্রেপ্তার এড়াতে ‘আত্মগোপনে’ থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। রাজপথে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনের কর্মসূচিতে হাজির হচ্ছেন অনেকে। আবার মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করছেন নিজ উদ্যোগে। কেন্দ্রের ‘কঠোর বার্তায়’ পদপদবি হারানোর ভয় এবং নতুন দিনের প্রত্যাশায় ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামছেন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, রাজপথ আর কারাগারই তাদের ঠিকানা। দাবি আদায়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে জানান তারা। যদিও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে একদফার আন্দোলনে থাকা বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও সাজার ঘটনা বেড়েছে। নির্বাচনের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কিছু শীর্ষনেতা কারাগারে থাকলেও মধ্যম সারির অনেক নেতা কারামুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া আন্দোলনে সক্রিয়তার পাশাপাশি নির্যাতিত নেতাকর্মীর পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে দলের মহাসচিব কারাবন্দি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে কালো পতাকা মিছিল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির প্রথম কর্মসূচি। ‘দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ সংসদ বাতিলসহ একদফা দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। একই কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন দল ও জোট। শনিবার ঢাকায় কালো পতাকা মিছিলে অসংখ্য নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণে বিএনপির হাইকমান্ড সন্তুষ্ট। ২৮ অক্টোবরের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেলেও অন্যদের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। গত শনিবার আত্মগোপনে থাকা নেতাদের কালো পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার মাঠে দেখা গেছে বিএনপির নিজস্ব একশ সদস্যের নিরাপত্তা টিম। গত শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কালো পতাকা মিছিলের সার্বিক নিরাপত্তায় একই রঙের ক্যাপ পরে তারা শৃঙ্খলার বিষয়টি তদারকি করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আবারও প্রমাণিত হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার সরকার গণতন্ত্রকামী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর যতই হামলা করুক, গায়েবি মামলা দিক, গ্রেপ্তার করুক, সাজাসহ ভয়ংকর নির্যাতন করুক—এতে কোনো লাভ হবে না।

আরও পড়ুন:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গায়ের জোরে একতরফা ডামি নির্বাচনের পর অবৈধ সরকার জনগণের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। সেজন্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ দিশেহারা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু জানান, দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষনেতারা সারা দেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের তদারকি করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও দেখছেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর ঘরছাড়া। নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মো. আনোয়ারুল হক, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ কয়েকজন বলেন, হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার উপেক্ষা করেও নির্বাচন-পরবর্তী কালো পতাকা মিছিলের মাধ্যমে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবারও চাঙ্গা ও সক্রিয় হয়ে উঠছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন:

Back to top button