প্রবাসমধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরব বেতন কমিয়েছে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের গৃহকর্মীদের

বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের গৃহকর্মীদের বেতন কমিয়ে দিয়ে সর্বনিম্ন বেতন নিধারণ করেছে সৌদি আরব। এর মধ্যে আছে কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সহ কিছু দেশ। এ খবর দিয়ে অনলাইন দ্য ইস্ট আফ্রিকান বলছে, সবচেয়ে বেশি বেতন কমানো হয়েছে কেনিয়ার গৃহকর্মীদের। তারাই সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি বেতন পান। সেই বেতন শতকরা ১৭.২ ভাগ অর্থাৎ মাসে প্রায় ৫০০ ডলার কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপরে উল্লিখিত ৬টি দেশের গৃহকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পেতেন কেনিয়ান বংশোদ্ভূত বা কেনিয়ান গৃহকর্মীরা। তারা বার্ষিক ১০,৬৭০ রিয়াল বা ২৯০০ ডলার আয় করতেন। তা এখন কমিয়ে করা হয়েছে ৯০০০ রিয়াল বা ২৪০০ ডলার।

তালিকায় থাকা এসব দেশের মধ্যে দুই অংকের শতকরা হার কমানো হয়েছে শুধু আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য। ইথিওপিয়ার জন্য কর্তন করা হয়েছে শতকরা ১৪.৫ ভাগ। আগে তারা বার্ষিক ৬৯০০ রিয়াল বা ১৮৩৯ ডলার বেতন পেতেন।

এখন তা কমিয়ে করা হয়েছে ৫৯০০ রিয়াল বা ১৫৭৩ ডলার।
অন্যদিকে উগান্ডার গৃহকর্মীদের বেতন কমানো হয়েছে শতকরা ১২.৬ ভাগ। আগে তারা পেতেন ৯৫০০ রিয়াল বা ২৫৩৩ ডলার। তা কমিয়ে এখন করা হয়েছে ৮৩০০ রিয়াল বা ২২১৩ ডলার।

ফিলিপাইনের গৃহকর্মীদের বেতন কর্তন করা হয়েছে শতকরা ৭.৫ ভাগ। শ্রীলঙ্কার বেতন কমানো হয়েছে শতকরা ৮ ভাগ এবং বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের বেতন কমানো হয়েছে শতকরা ৯.৬ ভাগ।

মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আরবি ভাষায় মঙ্গলবার যে বিবৃতি দিয়েছে তার অর্থ এরকম- রিক্রুটমেন্ট খরচ এবং সুষ্ঠু পাওনা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের রিভিউয়ের অধীনে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এমন এক সময়ে বেতন কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যখন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তার দেশে ফুলেফেঁপে ওঠা বেকারত্বকে সমাধানের চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানদাতাদের কাছে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দেশে যে পরিমাণ রেমিটেন্স গিয়েছে গতবছর আগস্ট পর্যন্ত শেষ আট মাসে তার দুই তৃতীয়াংশই সৌদি আরবের। ফলে সৌদি আরব বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় তার এ উদ্যোগে বড় আঘাত লাগবে।

গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট রুটো ঘোষণা দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ অর্থনীতিতে কেনিয়ানদের জন্য তিনি সাড়ে তিন লাখ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে পেরেছেন। এর কারণ, সব অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে কেনিয়ার গৃহকর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন। ফলে তাদের চাহিদা বেশি। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আমার সৌদি আরব সফরে সৌদি আরব জানিয়েছে তাদের সাড়ে তিন লাখ কর্মী প্রয়োজন। অন্যদের তুলনায় তারা কেনিয়ান কর্মীদের বেশি পছন্দ করেন। কারণ, তারা কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন।

গত মাসের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট রুটো ঘোষণা দেন, সৌদি আরবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করছেন তিনি। পরে তিনি আড়াই হাজার দক্ষ শ্রমিকের বিষয়ে কথা বলেন।

কেনিয়া থেকে সৌদি আরবে গৃহকর্মী রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের ডাটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২২ সালে প্রায় ৮০ হাজার কেনিয়ান গৃহকর্মী মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন:

Back to top button