বিএনপিরাজনীতি

রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন খালেদা, বৈঠক করবেন সিনিয়র নেতাদের সাথে

দীর্ঘ ১৫৬ দিন হাসপাতালে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার ফিরোজা গেছেন বেগম খালেদা জিয়া। ফিরোজায় তিনি এখন বিশ্রামের সময় কাটাচ্ছেন। তবে খুব শীঘ্রই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন যে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং যেকোনো সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেন। গত নির্বাচন নিয়ে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত বিরক্ত এবং হতাশ। এ কারণেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাচ্ছেন।

তবে একাধিক সূত্র বলছে যে বেগম জিয়াকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার জন্য একটি মহল জোর তৎপরতা দেখাচ্ছে। তারা মনে করছে যে বেগম জিয়া নেতৃত্বে না এলে দলটি ধ্বংস হয়ে যাবে। তারেক জিয়ার ভুল সিদ্ধান্ত, একগুয়েমী এবং অপরিপক্ক রাজনৈতিক কৌশল বিএনপিকে বিপদগ্রস্ত করেছে বলেও মনে করেন বিএনপির অনেক নেতারা। তারাই মূলত খালেদা জিয়াকে সক্রিয় করার জন্য চেষ্টা করছেন।

এদিকে একাধিক সূত্র বলছে যে নির্বাচনের পর সরকার একটি রাজনৈতিক সমঝোতা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের পথে পা দিয়েছে। আর এই কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে তারা আস্তে আস্তে রাজনীতির মাঠে নামানো হচ্ছে সরকারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে। সরকার মনে করছে তারেক জিয়ার চেয়ে বেগম খালেদা জিয়া অনেক ভালো বিকল্প এবং খালেদা জিয়া রাজনীতিতে থাকলে রাজনীতি অন্তত দুর্বৃত্তায়ন এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকবে। তবে কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক জিয়া একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বেগম জিয়া যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াও নির্বাচনের আগে একই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিএনপি আদর্শিকভাবে একটি সন্ত্রাসী দল। বিএনপির সঙ্গে কোন রকম রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।

তবে বিভিন্ন মহল মনে করছেন যে এখন কৌশলগত কারণে সরকার বিএনপির সঙ্গে একটি সমঝোতার নীতি তৈরি করতে পারে, যাতে বিএনপি আন্দোলন ছেড়ে তাদের সংগঠনে মনোযোগ দিতে পারে। খালেদা জিয়া সহ দলের সিনিয়র নেতাদের জামিন হতে পারে এবং দেশের রাজনীতি সংঘাতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আর এই কারণেই বেগম জিয়া যারা এখন বাইরে আছেন এই সমস্ত সিনিয়র নেতাদের নিয়ে খুব শীঘ্রই বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

বেগম জিয়ার একজন চিকিৎসক বলছেন যে, তিনি বৈঠকের আগ্রহের কথা বলেছেন। দু একটা দিন যাওয়ার পর একটু সুস্থ বোধ করলে তিনি মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান সহ যারা গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাইরে আছেন তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বিএনপিকে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে আন্দোলন নয়, বিএনপি এখন প্রধান লক্ষ্য হল সংগঠনের মধ্যে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে সেই হতাশাকে কাটিয়ে তোলা এবং নেতাকর্মীদেরকে জেল থেকে মুক্ত করা এবং সাংগঠনিক ভাবে বিপর্যস্থ দলটিকে সাংগঠনিক ভাবে একটা ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।

বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন যে, নির্বাচন হয়ে গেছে। এখন আন্দোলন করার সময় নয়। এখন আমাদেরকে আগে সংগঠন গোছাতে হবে। এই বার্তাটি বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারেক জিয়া এরকম প্রস্তাবে রাজি না। বরং তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার পক্ষপাতি। কিন্তু এ ধরনের আন্দোলন অর্থহীন মনে করছেন সিনিয়র নেতারা। আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়া দলকে একটি নীতি নির্ধারণী দিক নিদের্শনা দেবেন বলে জানা গেছে।

৪ মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন:

Back to top button