যে কারণে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করতে চান ছোট দলের বড় নেতারা

‘আসন্ন স্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দল জোটবদ্ধভাবেই নির্বাচন করবে এ নিয়ে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। গতকাল আমরা আওয়ামী লীগ সভাপতি, জোট প্রধান এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম সেখানেও সিদ্ধান্ত হয়েছে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। এখন আওয়ামী লীগ জোটের শরিকদের কোন কোন আসনে ছাড় দেবে এবং কত আসনে ছাড় দেবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে- বলছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
২০০৮ সাল থেকে হাসানুল হক ইনু জোট সঙ্গী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যেহেতু বিএনপি নির্বাচন বর্জন করছে, এই সুযোগে আপনি জাসদের দলীয় প্রতীক মশাল নিয়ে নির্বাচন করলে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তো কী না এমন প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, কখনো কখনো দলের চেয়ে জোট বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জোটের প্রয়োজনেই আমরা জোটের প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব। জাসদের দলীয় প্রতীক মশাল নিয়ে নির্বাচন করলে দলের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়তো কি না বলে আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তার উত্তর হচ্ছে হয়তোবা বাড়তো। কিন্ত আমরা একটা জোটে আছি এবং জোট সঙ্গী হিসেবেই বিগত ৩টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এবারও তাই করতে হচ্ছে।

১৪ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর সঙ্গে আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাসানুল হক ইনু। বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী জোটের শরীকদের আসন বণ্টনের বিষয়ে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুকে। আমরা কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি সেখানে বিস্তারিত কিছু আলাপ হয়নি।

জাসদ এবার কয়টি আসন পেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি, তাই এ বিষয়ে কথা বলা সমীচীন হবে না। তবে বর্তমানে আমাদের যে সিট আছে তার থেকে বেশি পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।

হাসানুল হক ইনুর মতো ছোট দলের আরেক বড় নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্র নেতা থেকে তিনি পরিচিত মুখ। বরিশাল-২ আসন থেকে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতীক হাতুড়ি নিয়েই জয় পান মেনন। কিন্ত সবশেষ ৩টি নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয় লাভ করেছেন।

দলের প্রতীক রেখে কেনো আপনি জোটের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, এটা জোটের সিদ্ধান্ত। আমরা যারা জোট থেকে আসন পাব তারা ছাড়া বাকিরা কিন্ত দলীয় প্রতীক হাতুড়ি নিয়েই নির্বাচন করবেন। ১৪ দলীয় জোট একটি আদর্শিক জোট। জোটের স্বার্থে আমরা নৌকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব।

দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে হেরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি দলীয় প্রতীকেও জয়লাভ করেছি আবার জোটের প্রতীকেও জয়লাভ করে সংসদে গিয়েছি বা আছি। নির্বাচনে অংশ নিলে হার জিত থাকবেই। বিষয়টি এমন নয় যে আপনি নৌকা পেলেই জিতে যাবেন আর হাতুড়ি নিয়ে নির্বাচন করলে হেরে যাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ছোট দলের নেতারা নির্বাচনী বৈতরণি ঝুঁকি ছাড় পাড় হতে গিয়ে নৌকায় নির্বাচন করতে চান। তারা যদি নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে হেরে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকেই যায়।

তিনি বলেন, এর বাইরে জোটের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার বড় দুইটা কারণ হতে পারে, তারা যে একে অন্যের অংশীদার বা শরিক তার প্রমাণ হচ্ছে জোটের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা। এটা বড় দলের পক্ষ থেকে ছোট দলকে গুরুত্ব দেওয়া বোঝায়। আবার যেকোনো বিপদে কিংবা প্রতিকূল পরিবেশে যেন নিজেরা একত্রিত থাকতে পারেন সেজন্য তারা নির্বাচন আসলে নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশ নেন।

Exit mobile version