বাসায় ঢুকে গৃহকর্তাকে মাদকসেবী বলে এক লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের সময় গ্রেপ্তার

সাধারণ মানুষকে পুলিশ পরিচয়ে গাড়িতে তুলে জিম্মি করে অর্থ আদায় ও ডাকাতির অভিযোগে এক বছর আগে তাঁরা সাময়িক বরখাস্ত হন। এসব অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ঢাকার শাহজাহানপুর ও যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাও আছে।

এবার বাসায় ঢুকে গৃহকর্তাকে মাদকসেবী বলে এক লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টার সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকার মুগদা থানা-পুলিশ।

মুগদা থানা-পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মুগদার উত্তর মানিকনগরের একটি বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন রোববার সকালে তিনজনকে আসামি করে মুগদা থানায় মামলা করেন গৃহকর্ত্রী ইতি আক্তার সাফিয়া। ওই দিনই গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তিন পুলিশ সদস্য কোন থানা থেকে এসেছেন, সেটি জানতে চান শহিদুলের ভাতিজা তৌহিদুল ইসলাম (ইমন)। তখন তাঁরা সেটি জানাতে অস্বীকৃতি জানান। ইমনের সন্দেহ হলে তিনি ঘরের বাইরে গিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। ৮–১০ মিনিট পর মুগদা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আকতার হোসেনের একটি দল তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এই তিন পুলিশ সদস্য হলেন হাসান আল বান্না, নাসিদুল ইসলাম ও বেলাল হোসেন। তাঁরা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রিজার্ভ ও কল্যাণ ফোর্সে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত, থাকতেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের রিজার্ভ ও কল্যাণ ফোর্সের ব্যারাকে।

ইতি আক্তারের ভাষ্য, রাত সোয়া আটটার দিকে গ্রেপ্তার তিন পুলিশ সদস্য বাসার গেটে এসে ইতি আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলামের খোঁজ করেন। পরে বাসায় ঢুকে তিনজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। শহিদুলকে তাঁরা বলেন, ‘তুই মাদক সেবন করিস, আমাদের সঙ্গে থানায় চল।’ এ সময় গ্রেপ্তার তিন পুলিশ সদস্য সাদাপোশাকে ছিলেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তখন বলেন, এক লাখ টাকা না দিলে শহিদুলকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। আর বাঁচতে চাইলে এক লাখ টাকা দাবি করেন তিনজন। একপর্যায়ে তাঁরা ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফার জন্য চাপ দেন।

পুলিশ জানায়, নাসিদুল ও বেলালের বিরুদ্ধে গত বছরের আগস্টে শাহজাহানপুর থানায় গাড়িতে তুলে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুটি মামলা হয়। মামলা দুটির তদন্ত করেছিলেন তৎকালীন শাহজাহানপুর থানার এসআই আবুল আনসার। তিনি এখন মুগদা থানায় কর্মরত আছেন।

ডিএমপির রিজার্ভ ও কল্যাণ ফোর্স সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্ত হলেও তিনজন এখনো পুলিশ সদস্য। তাঁরা তিনজনই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের ব্যারাকে থাকেন।

যাঁরা ব্যারাকে থাকেন, সন্ধ্যা সাতটার পর তাঁদের অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ অনুমতি ছাড়া বাইরে যান, তা হলে রোল কলের সময় সেটি ধরা পড়ে। শনিবার এই তিনজনের অনুপস্থিতির বিষয়টি সন্ধ্যা সাতটার সময়ই ধরা পড়ে। রাতে মুগদা থানা-পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারের কথা জানায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন বলেন, মুগদা থানায় গ্রেপ্তার তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি বিভাগীয় মামলার তদন্ত চলবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হতে পারে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এমএ

Exit mobile version