প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন

আজ সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীরা আজ সোমবার নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটটি নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভারতের রেল ও টেক্সটাইল দর্শনা বিক্রম জারদোস ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহম্মদ ইমরান তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের নয়াদিল্লী সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশ।

এ সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বন্টন ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনা বেশি গুরুত্বপাবে। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, রেল মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, এফবিসিসিআয়ের সাবেক পরিচালক ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নয়াদিল্লি সফর করছেন।

নয়াদিল্লি পৌঁছালে পালাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সম্মননা জানানো হবে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সফরকালী আবাসস্থল নয়াদিল্লির হোটেল আইটিসি মৌর্যে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি।

বিকেলে হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া দরগাহ পরিদর্শন করবেন শেখ হাসিনা। রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে বাংলাদেশ হাউজে নৈশ ভোজের আয়োজন করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রী এ নৈশভোজে অংশ নেবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে যাবেন। সেখানে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি ভবনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শেখ হাসিনা রাজঘাট-এ মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে যাবেন। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হায়দ্রাবাদ হাউসে যাবেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। দুই নেতার বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা। একই স্থান থেকে নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা যৌথ বিবৃতি দেওয়ার কথা।এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।

বিকেলে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে উপরাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভারতের উত্তর পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী কিষাণ রেড্ডি।

পরে একই হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে একই স্থানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং যুদ্ধাহত ভারতীয় সৈনিকদের পরিবারবর্গের মাঝে ‘মুজিব স্কলারশীপ’ প্রদান করবেন।

সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লি থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে জয়পুর যাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজমীরে খাজা গরীবে নেওয়াজ দরগাহ শরীফ পরিদর্শন করবেন।পরে জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ঢাকায় ফিরে আসবেন।

সর্বশেষ করোনা মহামারীর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এমএ

Exit mobile version