শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ,একাডেমিক কার্যক্রমে স্থগিত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আলমগীর সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজ সকালে মুহাম্মদ আলমগীর সরকার বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে প্রণীত নীতিমালার আলোকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিঠির কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়কের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, নীতিমালা অনুযায়ী, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আছে। তাই কারও নাম প্রকাশ করছেন না তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। অভিযোগটির তদন্ত করছেন তাঁরা। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা আছে। সে অনুযায়ীই তাঁরা তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, কয়েক বছর ধরে তাঁরা ওই শিক্ষকের যৌন নিপীড়ন, মানসিক নির্যাতনসহ নানা পক্ষপাতপূর্ণ আচরণের শিকার হয়ে আসছেন। যার সর্বশেষ প্রতিফলন ঘটেছে সম্প্রতি শেষ হওয়া সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

এতে যেসব শিক্ষার্থী তাঁর কথামতো চলেন না, তাঁর কক্ষে গিয়ে সময় দেন না, তাঁদের নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা তাঁর সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক’ বজায় রেখেছেন, তাঁদের বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হওয়ায় তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

বিভাগের নাম প্রকাশ না করে একজন ছাত্রী অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই বিশেষ করে মেয়েশিক্ষার্থীদের রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত ভয়ভীতি প্রদর্শনের (পরীক্ষার ফলাফলের) মাধ্যমে তাঁর অফিসকক্ষে বসিয়ে রাখেন ওই শিক্ষক। অনলাইন পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে ছাত্রীদের শাড়ি পরা নিয়েও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করেন তিনি।

এর আগে ওই সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীদের রাতে ডেকে নিয়ে নিজ অফিসকক্ষে বসিয়ে রাখাসহ নানা বিষয়ে অনুষদের ডিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন দুটি ব্যাচের ৩২ শিক্ষার্থী। এসব অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বাংলা ম্যাগাজিন / এমএ

Exit mobile version