ইতিহাস-ঐতিহ্য

হারিয়ে যাচ্ছে বখতিয়ার খিলজির স্মৃতিবিজরিত সেই ‘বখতিয়ারি মসজিদটি’

সংরক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার তিন গম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে বখতিয়ারি মসজিদ নামে পরিচিত।এ মসজিদটি ইসলাম প্রসারের ক্ষেত্রে অনেক অবদান রেখেছে। অমুসলিম অধ্যুসিত মাহিগঞ্জ এলাকায় ইসলাম প্রচারক শাহ জালাল বুখারী রহ. এ মসজিদে বসে দীর্ঘদিন (১৩০৭-১৪০০ খ্রি. এর মধ্যবর্তী সময়ে) ইসলামের প্রচার করেন। মসজিদের দক্ষিণ পাশে তার মাজার রয়েছে। ইসলাম প্রচারের ফলে এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে l

স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি রয়েছে যে, মসজিদটি ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির স্মৃতি বিজরিত। ইতিহাস বলছে, ১২০৪ সালে বঙ্গ বিজয়ের দু’বছর পর বখতিয়ার খলজি তিব্বত অভিযানকালে ঘোড়াঘাট থেকে কামরূপ যাওয়ার জন্য যাত্রাপথে রংপুরের ঘাঘট নদীর পশ্চিম পাড়ে যাত্রা বিরতি করেন। সে ঘটনার সাক্ষী আজও টিকে থাকা ‘বখতিয়ারপুর’ নামের গ্রামটি।

ঘাঘট নদী পাড়ের বখতিয়ারপুর গ্রাম থেকে মাহিগঞ্জের বখতিয়ারি মসজিদ কিছুটা দূরে হলেও মধ্যযুগে মাহিগঞ্জ যে রংপুরের প্রাণকেন্দ্র ছিল তা ইতিহাস থেকে জানা যায়। ফলে বখতিয়ার খলজির স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ এ অঞ্চলে থাকতেই পারে। বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর রাজ্য বাড়ানোর নমুনা হিসেবে নিজে অথবা তার নিযুক্ত শাসকরা সেসময় এই ছোট্ট মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

সংরক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার তিন গম্বুজ মসজিদ
সংরক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার তিন গম্বুজ মসজিদ

এই মসজিদের পাশেই শাহ জালাল বুখারী রহ. এর মাজারের অস্তিত্ব এটিকে সুলতানী আমলের মসজিদ হিসেবেও বিবেচনায় সহায়তা করে। সময়ের হিসাবে ৮০০ বছরের প্রাচীন এই অনন্য স্থাপত্য উত্তরাঞ্চলের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর একটি l বিতর্কের শেষ নাই lঅনেক ঐতিহাসিকের মতে, ঘোড়াঘাটের ফৌজদার এবাদত খান ১৬৮৭ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে সে তথ্যের কোনো সূত্র নেই।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

Flowers in Chaniaগুগল নিউজ-এ বাংলা ম্যাগাজিনের সর্বশেষ খবর পেতে ফলো করুন।ক্লিক করুন এখানে


বাংলা ম্যাগাজিন ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন



Back to top button