এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে মানবাধিকার লংঘনকারীদের ইউরোপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আইন

বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মার্কিন সিনেটের উদ্যোগের পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবাধিকার লংঘনকারীদের ইউরোপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আইন তৈরি করেছে। রোববার (০৭ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয় হয় ইউরোপীয়ন ইউনিয়ন কাউন্সিলে।

এই আইনের ফলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউরোপে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক একাউন্ট জব্দ বা উভয় বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ গুলো।এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিজেকে এমন একটি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসল, যা দ্বারা তারা বিশ্বব্যাপী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং লঙ্ঘনের সাথে জড়িত বা সংশ্লিষ্ট, দায়বদ্ধ, রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র বহির্ভূত ব্যক্তি, একক সত্তা এবং সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।

এছাড়াও, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইইউ ভুক্ত দেশ গুলো কোনো ধরণের তহবিল সরবরাহ করতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলো যেসব বিষয়ে বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা আরোপ করতে পারবে তার মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের (যেমন নির্যাতন, দাসত্ব, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবী গ্রেপ্তার বা আটকে রাখা) মতো অপকর্ম।অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনগুলিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে বলে ইইউ কাউন্সিলের আইনে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে গত এক দশকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে শেখ হাসিনার সরকার। গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমন করতে পুলিশ ও র‌্যাবকে ব্যবহার করে গুম, তথাকথিত ক্রসফায়ার ও নির্যাতন চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম আর নির্যাতনের শত শত অভিযোগে র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে গত ২৮ অক্টোবর তখনকার ট্রাম্প প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিলো মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির ১০ সদস্য ।

মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর বব মেনেনডেজ ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর টড ইয়াং এবং তাঁদের আট সিনেট সহকর্মী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিনকে নিষেধাজ্ঞার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।সিনেটররা লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অব্যাহত অভিযোগের বিষয়ে চরম উদ্বেগ জানিয়ে আমরা লিখছি। ২০১৫ সাল থেকে র‌্যাবের বিরুদ্ধে চার শতাধিক মানুষকে বিচারবহির্ভূভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

গুম ও নির্যাতনের অনেক ঘটনায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধের বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অভিযানের অংশ এবং এতে র‌্যাবকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না।

তাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সুনির্দিষ্ট জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্লোবাল মেগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট অ্যান্ড ফারদার কনসোলিডেটেড অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট-২০২০–এর ৭০৩১ (সি) ধারাসহ প্রয়োজনীয় কাঠামোর আওতায় র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করছি।’এরপর অস্ট্রৈলিয়ায় একজন সিনেটর বাংলাদেশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের হটস্পট অভিহিত করে অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।এবার বৈশ্বিক মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে আইন প্রণয়ন করলো ইইউ। এ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এর ফলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্তদেরও বৈশ্বিকভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

Exit mobile version